মার্কিন ক্ষমতার মঞ্চে আজ এক নতুন দৃশ্য! যে ডোনাল্ড ট্রাম্প একচ্ছত্র আধিপত্যে অভ্যস্ত ছিলেন, তিনি প্রথমবার নিজ দলের তীব্র প্রতিবাদের সম্মুখীন। এক ফোঁটা জলের মতো সেই বিদ্রোহের স্রোত—এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের বিল—এবং স্রোতের টানে প্রেসিডেন্টকেও নিজের অবস্থান থেকে সরতে হলো। প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতার এই মধ্যাহ্নে দাঁড়িয়েও কি তিনি এখন কেবলই এক হতভাগ্য প্রেসিডেন্ট? সিংহাসনে বসেও আজ যেন তার প্রভাবের সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলছে।

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রারম্ভে, নিজের দলের ভেতর থেকে প্রথমবারের মতো কঠোর প্রতিবাদে আঘাত পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই শক্তি–প্রদর্শনের মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁরও সুর নরম হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের বিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনা যেমন ঝুঁকি তৈরি করেছিল, তেমনি ট্রাম্পকে করল স্থির—দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের নথি প্রকাশে বাধ্য করার বিলের পক্ষে তিনি সমর্থন দিলেন।

এই মনোভাবের পরিবর্তন সহজে আসেনি। দীর্ঘ সরকারি শাটডাউনের কারণে হাউস এক মাসেরও বেশি সময় স্থবির—ক্ষণিক সময়ের জন্য ট্রাম্প রক্ষা পেলেন ভোটের ঝঞ্ঝা থেকে। কিন্তু যখন তিনি অবশেষে পদক্ষেপ নিলেন, হাউসে ভোট হল প্রায় সর্বসম্মতিতে।

এখন বিলটি হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছে, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষারত। এপস্টিনের নথির মতো পরবর্তী দলিলগুলোতেও তাঁর নাম কি থাকবে—অজানা। তবে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প আর বিতর্কে প্রবেশ করতে চান না। ওভাল অফিসে সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, “তুমি খারাপ রিপোর্টার।” এয়ার ফোর্স ওয়ানে অন্য এক সাংবাদিককে আঙুল তুলে বলেছিলেন, “চুপ করো, পিগি।”

রিপাবলিকানদের স্থির না হওয়ার যুক্তি দিয়েছেন থমাস মেসি—“আজ ভিন্নমত দিলে ট্রাম্প রক্ষা করবেন। তবে এই ভোটের রেকর্ড চিরকাল আপনার সঙ্গে থাকবে।”

এই সঙ্গে ট্রাম্পের ঘোষণাও—২০২৮ সালে আর প্রার্থী হবেন না। অর্থাৎ ২০২৯ সালে হোয়াইট হাউসে আর থাকবেন না। এভাবেই উঁকি দিচ্ছে ‘লেম ডাক প্রেসিডেন্সি’র ছায়া।

রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট: এপস্টিন নথি, পররাষ্ট্র নীতি, শুল্কনীতি, হোয়াইট হাউস সংস্কার, পরিবারের আর্থিক লাভ—সবই। সোমবারওভাল অফিসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পাশে ট্রাম্প সমর্থনের দৃঢ়তা দেখালেন।

লেম ডাক কি শুধু রূপক? না, মার্কিন রাজনীতিতে এটি আনুষ্ঠানিক। নির্বাচন পরাজয়ের পর নতুন নেতা শপথ নেবার আগ পর্যন্ত বিদায়ী নেতা ‘লেম ডাক’। ক্ষমতায় থাকলেও ভোটারদের কাছে জবাবদিহি কমে যায়।

কঠোর সংজ্ঞায় ট্রাম্প এখনও লেম ডাক নন—আগামী দুইটি জাতীয় ভোটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত অর্থে, পুনর্নির্বাচন অযোগ্য নেতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন থেকেই লেম ডাক।

ইতিহাস প্রমাণ করে, লেম ডাক সময় বিপদসঙ্কুল। ১৮৬০-এ লিংকনের শপথের আগে দক্ষিণী রাজ্যগুলো বেরিয়ে গেলেন। বুশও শেষ মুহূর্তে বেইলআউট করলেন।

১৯৩৩ সালে ২০তম সংশোধনী এ সময় সংক্ষিপ্ত করল। ঘোড়া–গাড়ির যুগের নির্বাচনের পর ১৩ মাস অপেক্ষার দিন শেষ। আজ ৩৬ মাস অবশিষ্ট—এ সময়ে আর কত ঝড় উঠবে, জানে না কেউ।

লেখা : সিএনএন অবলম্বনে

Muktojanala

চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এক উন্মুক্ত বাংলা প্ল্যাটফর্ম। সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ভ্রমণ ও জীবনের বিচিত্র রঙ্গের বিশ্লেষণ। প্রতিদিনের ভাবনায় নতুন আলো ছড়াতে আমরা আছি আপনার পাশে।

https://www.muktojanala.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *