
কম বাজেটে হাই-কনফিগারেশনের একটা মোবাইল ফোন—কার না লোভ হয়! এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই এখন অনেকেই ঝুঁকছেন সেকেন্ড হ্যান্ড বা ইউজড মোবাইল ফোনের দিকে। বুদ্ধিমানের কাজ, সন্দেহ নেই। কিন্তু একটু অসাবধান হলেই এই ‘লাভের সওদা’ মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে বড় লোকসানে—চোরাই সেট কিংবা ভেতরে ভেতরে অকেজো একটা ফোন হাতে চলে আসতে পারে আপনার!
সুখবর হলো, কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে এই ঝুঁকি এড়ানো মোটেও কঠিন নয়। ফোন কেনার আগে হাতে নিয়ে মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে যাচাই করে নিন এই ৬টি বিষয়—তাহলেই নিশ্চিন্ত!
১. প্রথমেই দেখুন কাগজপত্র ও IMEI নম্বর মিলছে কি না
অচেনা বা অবিশ্বস্ত কারো কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেনা মানেই বড় আইনি ঝুঁকি ডেকে আনা। ফোনটি যদি চোরাই হয়, তাহলে সিম চালু করা মাত্রই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যেতে পারেন আপনি নিজেই।
করণীয়: বিক্রেতার কাছে আসল ক্যাশ মেমো, মূল বাক্স এবং সচল থাকলে ওয়ারেন্টি কার্ড চেয়ে নিন।
যাচাইয়ের সহজ উপায়: ফোনের ডায়াল প্যাডে টাইপ করুন *#06#। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি বক্স ও ক্যাশ মেমোর নম্বরের সাথে মিলিয়ে দেখুন। কোথাও অমিল পেলে সেই ফোন থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. ডিসপ্লে আর টাচ—নিখুঁত কি না ধরা পড়ে এখানেই
একটা মোবাইল ফোন আগে খোলা হয়েছিল কি না, তার আসল প্রমাণ লুকিয়ে থাকে ডিসপ্লেতেই।
চোখে দেখে বুঝুন: স্ক্রিনে ফাটল বা অস্বাভাবিক দাগ আছে কি না ভালোভাবে দেখুন। ডিসপ্লের চারপাশের জোড়ায় সামান্য ফাঁক থাকলেও সতর্ক হোন—এটাই বলে দেয় ফোনটি একবার হলেও খোলা হয়েছিল, এবং এমন সেট বেশিদিন টেকে না।

হাতে-কলমে টাচ টেস্ট: যেকোনো একটা অ্যাপ আইকন চেপে ধরে পুরো স্ক্রিনজুড়ে ঘুরিয়ে দেখুন। মসৃণভাবে ঘুরলে টাচ সেন্সর ঠিকঠাক আছে। মাঝপথে আইকন আটকে গেলে বুঝবেন, সমস্যা আছে।
৩. ক্যামেরার লেন্সের ভেতরে উঁকি দিন
ক্যামেরা পরীক্ষা করার সময় শুধু বাইরে থেকে দেখলেই চলবে না—ভেতরের অংশটাও ভালো করে খেয়াল করুন। সামনে-পেছনে দুই ক্যামেরার গ্লাসের ভেতরে সামান্যতম ধুলাবালি দেখা গেলেও বুঝে নিন, ফোনটি একবার খোলা হয়েছিল। আর এই সামান্য ধুলোই কিন্তু ভবিষ্যতে আরও ধুলা ঢোকার দরজা খুলে দেয়, যা দ্রুতই ঘোলাটে করে দিতে পারে আপনার ক্যামেরা।
৪. ব্যাটারি সত্যিই কতটা সুস্থ, পরখ করুন দুই মিনিটেই
ব্যবহৃত ফোনের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা—দুর্বল ব্যাটারি। ঘটনাস্থলেই যাচাই করতে ব্যবহার করুন এই দুটি পদ্ধতি:
অ্যাপ ড্রেন টেস্ট: ডাটা কানেকশন অন রেখে টানা ৫-১০ মিনিট ভারী কোনো অ্যাপ বা গেম চালান। চার্জ দ্রুত কমে গেলে বুঝবেন ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেছে।
রিস্টার্ট পদ্ধতি: ফোনটি ২-৩ বার রিস্টার্ট দিন। রিস্টার্টের আগে-পরে চার্জের পার্থক্য ১%-৫%-এর মধ্যে থাকলে ব্যাটারি ভালো অবস্থাতেই আছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
৫. স্পিকার, মাইক আর পোর্ট—সব চেক করুন একে একে
ফোনের বাকি হার্ডওয়্যারগুলোও ঠিকঠাক সাড়া দিচ্ছে কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সাউন্ড: পূর্ণ ভলিউমে একটা গান চালিয়ে স্পিকারের স্পষ্টতা যাচাই করুন। এরপর কাউকে কল করে ইয়ারস্পিকার ও মাইক্রোফোনের মান পরীক্ষা করে নিন।

পোর্ট ও স্লট: চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাক এবং বিশেষ করে ডুয়াল সিম স্লট—প্রতিটি একে একে পরীক্ষা করে দেখুন সব ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
৬. নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি—দুর্বল সিগন্যাল মানেই বিপদ
পুরোনো ফোনে অনেক সময় নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বা কানেক্টিভিটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সিম ঢুকিয়ে কয়েকবার কল করুন এবং ইন্টারনেট চালিয়ে সিগন্যালের স্থায়িত্ব যাচাই করুন। পাশাপাশি ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও হটস্পট বার কয়েক অন-অফ করে দেখুন—কোথাও কোনো স্লোনেস ধরা পড়ে কি না।
শেষ কথা
তাড়াহুড়ো করবেন না। যেকোনো সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে গুগলে সেটার বর্তমান অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল বাজারদর দেখে নিন, ফোনটির প্রকৃত বয়স হিসাব করুন, আর তারপর দর-দাম চূড়ান্ত করুন। একটু সময় নিয়ে যাচাই করলেই বাজেটের মধ্যে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের নিখুঁত ফোনটি।










































